Newsblows বাংলা

নিরপেক্ষ বাংলা খবর

বাংলাদেশ

ববি’র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৭৫


কোটা সংস্কার আন্দোলনের পূর্বঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউনের অংশ হিসেবে সড়কে নামতে বাধা দেওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে ৭০ জন ও পুলিশের ৫ জন আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীদের ইটপাটকেলের জবাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে ও বেশকিছু শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, কমপ্লিট শাটডাউন বাস্তবায়নে সকাল ১০টার পরই বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সড়কে জড়ো হয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। পুলিশও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে বিশেষ করে স্কুল কলেজের মূল ফটকে অবস্থান নেয়। নগরীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় কয়েকটি পয়েন্টে ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে মূল ফটকের বাইরে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বের হতে চাইলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষের পর শিক্ষার্থীরা আবারো ক্যাম্পাসে ফিরে যায়। পরে ক্যাম্পাসের মধ্যে তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে মিছিল করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জারিফ বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই সড়কে অবস্থান করতে চেয়েছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের বাধা দিয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের উপর টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া। এসময় তার সাথে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ভিসি আহত শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার চিকিৎসায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

মেট্রোপলিটন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কারণেই তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও তারা সড়কে বের হয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ চালায়। শিক্ষার্থীদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেটের ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এখন তারা সড়কে থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

অবরোধে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী মাহফুজ বলেন, পুলিশ আমাদের সড়ক ছাড়তে বলেছে। কিন্তু আমরা ছাড়ব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। গুলি তো আমাদের বুকে লেগেছে। আমরা ব্যথা বুঝি। আমাদের ওপর সরকার অবিচার করছে।



LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *