ভারতে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণে কি বিপদ বাড়ছে অন্যান্য দেশেরও! কী বলল WHO| Nipah virus cases in India what WHO says
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতে নিপা ভাইরাসের দেখা মিলেছে। এনিয়ে এবার সরব হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শুক্রবার হু জানিয়েছে, ভারতে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বর্তমানে বেশ কম। যেহেতু দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণের মাত্র দুটি ঘটনা পাওয়া গেছে,তাই এখনই যাতায়াত বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরণের বিধি-নিষেধ আরোপ করার প্রয়োজন নেই বলে তারা জানিয়ে।
এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে এনিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। ওইসব দেশ বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের মধ্যে এই ভাইরাসের কোনো লক্ষণ আছে কি না, তা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা জোরদার করার পরেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওই তথ্য জানিয়েছে।
হু তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়ে, এই ভাইরাস এক মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার হার বেড়ে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতীয়, আঞ্চলিক ক্ষেত্র ও বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমই রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলায় ২ জনের শরীরে নিপা ধরা পড়েছে। দুজনেই নার্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সংক্রমণটি শুধুমাত্র এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আক্রান্ত রোগীরা অসুস্থ বোধ করার সময় বা ভাইরাসের লক্ষণ থাকার সময় কোথাও ভ্রমণ করেননি। ভারতের অন্য রাজ্যগুলোতে বা ভারতের বাইরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
আরও পড়ুন-রাস্তাতেই দাহ করতে হল ৯১-এর দলিত বৃদ্ধার দেহ! কেন শ্মশানে যেতে বাধা দেওয়া হল স্বজনদের?
আরও পড়ুন-ভোটের আগেই রেজাল্ট আউট! এই মুহূর্তে বিধানসভা ভোট হলে কে জিতবে রাজ্যে? সমীক্ষায় উঠে এল সাংঘাতিক তথ্য…
নিপা ভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়
এটি প্রাণিবাহিত রোগ। মূলত বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
সংক্রামিত খাবার খেলে বা আক্রান্ত প্রাণীর সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এটি মানুষের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি দীর্ঘক্ষণ থাকলে এটি হতে পারে। তবে খুব সহজে বা দ্রুত ছড়ায় না।
লক্ষণ
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর এবং এনসেফালাইটিসের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রোগটি বেশ প্রাণঘাতী; আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৪০-৭৫ শতাংশ হতে পারে।
নিপা ভাইরাসের লক্ষণ এবং এর জটিলতাগুলো সহজ বাংলায় নিচে দেওয়া হলো:
নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা এবং পেশিতে ব্যথা শুরু হয়। এই লক্ষণগুলো খুব সাধারণ হওয়ায় অনেকে একে সাধারণ জ্বর বা অন্য কোনো অসুখ ভেবে ভুল করতে পারেন।
রোগটি বাড়লে মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দিতে পারে যা স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে।
অনেকের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের তীব্র সমস্যা দেখা দেয়।
অবস্থা আরও খারাপ হলে রোগীর খিঁচুনি হতে পারে এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রোগী কোমায় চলে যেতে পারে।
যারা এই রোগ থেকে বেঁচে ফেরেন, তাদের বেশিরভাগই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যান। তবে কিছু মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী স্নায়বিক বা মানসিক সমস্যা থেকে যেতে পারে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)





