Newsblows বাংলা

নিরপেক্ষ বাংলা খবর

স্বাস্থ্য সংবাদ

Snail Fever: দেশে দেশে ছড়াচ্ছে যৌনাঙ্গে সংক্রমকারী ভয়ংকর এই পরজীবী, জানুন স্নেইল ফিভার সম্পর্কে

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পোশাকি নাম স্লেইল ফিভার বা শামুক জ্বর। ডাক্তারি পরিভাষায় এটিকে বলা হয় সিস্টোমিয়াসিস। সিস্টোমোস নামে এক পরজবীর সংক্রমণে হয় ভয়ংকর এই রোগ। শামুক এই পরজীবী বহন করে থাকে। তাই এই পরজীবীর সংক্রমণে যে রোগ হয় তার নাম শামুক জ্বর বা স্নেইল ফিভার। এটি আক্রমণ করে যৌনাঙ্গকেও।

Add Zee News as a Preferred Source

এটি এমন একটি পরজীবী যা ত্বকের মধ্যে দিয়ে শরীরে ঢোকে ও রক্তের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। সেখানেই ডিম পাড়ে। তারপর সেই ডিম আক্রমণ করে মানুষে যৌনাঙ্গ, ফুসফুস, লিভারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শরীরের ভেতরে এই পরজীবী তোলপাড় করলেও তার কোনও লক্ষণ শরীরে দেখা যায় না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, রোগটি দেশে দেশে ছড়াচ্ছে এবং পরজীবীটি তার চরিত্র বদল করছে অবিরত। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। এদের বেশিরভাগই আফ্রিকায়। তবে বিশ্বের মোট ৭৮টি দেশে এই রোগের দেখা মিলেছে। এদের মধ্যে রয়েছে চিন, ইন্দোনেশিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, স্নেইল ফিভার গোটা বিশ্বে এখন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরজীবীটি নিজেকে এমন বদল করেছে যে সেটি খুব সহজেই এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। 

কোথায় থাকে এই পরজীবী

যে জলাশয়ে শামুকের বাসা সেখানেই এই পরজীবী ছড়িয়ে পড়ে। ওই জল কেউ ব্য়বহার করলে বা সেখানে স্নান করলে তিনি স্নেইল ফিভারে আক্রান্ত হতে পারেন। পরজীবীটির দেহে থাকে চামড়া গলিয়ে দেওয়ার মতো এনজাইম। সেই এনজাইমের ক্ষমতাতেই মানুষের চামড়া ফুটো করে তা রক্তে মিশে যায়।  এরপর পরজীবী লার্ভা মানুষের রক্ত নালীতে কৃমিতে পরিণত হয়। সেখানেই সেটি ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল-মূত্রের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে যায়। তবে বহু লার্ভা টিস্যুতে আটকে থাকে। এরপর সেই টিস্যুকে ধ্বংস করে। পাশাপাশি তা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন কিছু ডিম যৌনাঙ্গের আশপাশে আটকে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস। এই রোগে পেটব্যথা থেকে শুরু করে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণভাবে অ্যান্টি প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার সেরে যায়। তাই আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের শিশু, কৃষিজীবী ও মত্সজীবীদের বছরে একবার ওই ওষুধ খেতে বলা হয়। কিন্তু সমস্যা হল, বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরজীবীর নতুন কিছু ধরন পাওয়া গেছে যেগুলো বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ধরা নাও পড়তে পারে।

আরও পড়ুন-মোট ৭ হাইস্পিড রেল করিডর; সামরিক খাতে বিশাল বরাদ্দ, ১০ পয়েন্টে দেখে নিন নির্মলার বাজেট

আরও পড়ুন-হোটেলে ২.৫ কোটি টাকা খাবারের বিল বাকী হাসিনার, হাত তুলে নিলেন ইউনূসও!

হাইব্রিড প্রজাতি

স্নেইল ফিভারের ক্ষেত্রে বিপদের বিষয় হল একই জায়গায় বারবার এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এই পরজীবী একটি হাইব্রিড প্রজাতি তৈরি করে। এরা মানুষ ও প্রাণী দুজনকেই আক্রমণ করতে পারে। এনিয়ে গবেষণা খুব ছোট জায়গায় করা হয়েছে। ফলে সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে যে এই প্যারাসাইটের বিস্তার আরও বিশাল এলাকাজুড়ে। আপাতত তা ধরা পড়ছে না।

বিপদের কথা হল এই পরজীবী যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালে তা ধরা পড়ছে না। ফলে স্নেইল ফিভার অধরাই থেকে যাচ্ছে। কারণ এদের ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর ডিমের মতো দেখায় না। পাশাপাশি চিকিত্সকেরা অনেকসময় এর উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করছেন। ঠিকঠাক চিকিত্সা না হলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস থেকে যৌনাঙ্গে ক্ষত, বন্ধ্যত্ব এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই রোগ তাদের সন্তান ধারন ক্ষমতার উপরে প্রভাব ফেলতে পারে। জলবায়ু বদল, মানুষের এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার কারণে স্নেইল ফিভার ছড়াতে পারে। আর হাইব্রিড পরজীবী থাকলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। বিপদ তখনই।

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)



LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *