জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ফাল্গুন মাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাশিবরাত্রি। মহাদেবকে তুষ্ট রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রাত। অনেকের মধ্যে মহাশিবরাত্রির তারিখ ও সময় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। ২০২৬ সালে এই পবিত্র তিথিটি পড়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার।
শুভ মুহূর্ত ও সময় (পঞ্জিকা অনুসারে)
চতুর্দশী তিথি শুরু: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (রবিবার) বিকেল ৫টা ০৪ মিনিটে।
চতুর্দশী তিথি শেষ: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (সোমবার) বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে।
নিশীথ কাল পূজা (প্রধান সময়): ১৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা ০৯ মিনিট থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১টা ০১ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়টিই শিব আরাধনার জন্য সবথেকে শক্তিশালী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
চার প্রহরের পূজার সময়
মহাশিবরাত্রিতে সারারাত জেগে চার প্রহরে পূজা করার নিয়ম রয়েছে। ২০২৬ সালের জন্য সেই সময়গুলো হল-
প্রথম প্রহর: ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২৩ মিনিট।
দ্বিতীয় প্রহর: ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা ২৩ মিনিট থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৩৬ মিনিট।
তৃতীয় প্রহর: ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৩৬ মিনিট থেকে ভোর ৩টা ৪৭ মিনিট।
চতুর্থ প্রহর: ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৩টা ৪৭ মিনিট থেকে সকাল ৬টা ৫৯ মিনিট।
আরও পড়ুন-দেশে দেশে ছড়াচ্ছে যৌনাঙ্গে সংক্রমকারী ভয়ংকর এই পরজীবী, জানুন স্নেইল ফিভার সম্পর্কে
আরও পড়ুন-ঘরে ঘরে তল্লাশি করে ১৯০ জনকে খুন, শুনশান বালোচিস্তান, কাউকে না ছাড়ার হুঙ্কার পাক সেনার
ব্রত ভঙ্গের সময়
যারা মহাশিবরাত্রির ব্রত পালন করবেন, তারা ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ৫৯ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ২৪ মিনিটের মধ্যে উপবাস ভাঙতে বা পারণ করতে পারবেন।
মহাশিবরাত্রির গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য
মনে করা হয়, এই বিশেষ দিনে ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর পবিত্র বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তাই এটি শিব ও শক্তির মিলনের উৎসব।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতেই ভগবান শিব প্রথমবার লিঙ্গরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
মহাশিবরাত্রির রাতকে আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এই রাতে জেগে থেকে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করলে মানুষের মনের অন্ধকার বা অজ্ঞানতা দূর হয় এবং সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পায়।
২০২৬ সালের মহাশিবরাত্রিতে ‘সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ’ এবং ‘শ্রবণ নক্ষত্র’-এর এক বিরল সংযোগ তৈরি হচ্ছে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই শুভ যোগে পূজা করলে বিশেষ সুফল পাওয়া যায় এবং জীবনের সব বাধা দূর হয়।
পূজা পদ্ধতি: এই দিনে ভক্তরা সারাদিন উপবাস থেকে শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ, বেলপাতা, ধুতুরা ফুল এবং মধু দিয়ে অভিষেক করেন। মনে করা হয়, নিষ্ঠার সঙ্গে এই ব্রত পালন করলে মহাদেবের আশীর্বাদে ভক্তের সকল মনস্কামনা পূর্ণ হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)





